Saturday, July 11, 2020

চলনকথা


চলনকথা
সাতকাহন সাতকাহন-
কত দিনের পথ
ফেলে এলে বৃষ্টি-রোদে
ধূলিধূসর রথ?
রথের চূড়োয় উড়ছে ধ্বজা
হাওয়ার সাথে যুদ্ধ-
রইতে হলে সইতে হবে
হাওয়া বড়োই ক্রুদ্ধ!
ক্রোধের থাবা আষ্ঠেপৃষ্ঠে
বিতত বিতংস-
আগুনরেখায় গণ্ডি টানা
হাতছানি দেয় ধ্বংস!
ধ্বংসমাতন সামাল সামাল,
মূল্য কড়ি কানা,
তবু শূন্য থেকে অন্য ভোরে
ফিনিক্স মেলুক ডানা।

July 12, 2020

আয়না


tuerSp1uSosns0or Jruhalegtdy 2l0S17 
Shared with Public
Public
আয়না
সামনে তোমার আয়না মজুদ
তবুও তুমি দেখছো না।
একি বালাই! নিজেকে আজ
মানুষ বলেই চিনছো না!
চোখে তোমার অসুখ নাকি?
মনে ঘুনের বাসা?
কার সলাতে চলন তোমার
এমন বুদ্ধিনাশা!
মানুষ-চোখে মানুষ-মনে
আয়নাটাকে বোঝো,
নিজের ভিতর ঘুমন্ত সেই
মানুষটাকে খোঁজো।

Friday, June 5, 2020

ফর্মুলা


ফর্মুলা
ঝড়ের ওপর ঝড় এসেছে, নেই কোনো উপায়-
আমফানেতে সব কেড়েছে, বাকি প্রাণের দায়।
পায়ের নিচে নেইকো মাটি, পেটের খিদে সার-
মাথার ওপর ছাদ উড়েছে - ভগবানের মার।
নোনাজলে মাঠ ডুবেছে নিঃস্ব শস্য সুখ,
বন্ধ্যা জমি ক'টা বছর ফিরিয়ে নেবে মুখ।
ঘরের রসদ আগেই খতম, এবার লোপাট ঘর-
চোখের সামনে শুধুই আঁধার শূন্য চরাচর।
এ জল এবার মাপা হবে রাজনৈতিক স্কেলে,
হিস্যা নিয়ে লাঠালাঠি পদ্ম-ঘাসের ফুলে।
উলুখড়ে চুষবে কলা চিরকাল যা হয়-
ভয়ের গ্রহে জন্ম এদের কপালজোড়া ক্ষয়!
ক্ষতির হিসেব কষতে আছে দুটিই ফর্মুলা-
মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা - না যদি যায় বলা
মেনে তখন নিতেই হবে অন্যটিকেই খাঁটি-
ক্ষতি নেহাৎ বোঝার ওপর ছিল শাকের আঁটি।



[May 28, 2020, Lockdown day 65]

ভারি ভার্চুয়াল

ভারি ভার্চুয়াল

উত্তরে চাই দক্ষিণে চাই
ফেসবুক বিনে কোনো গতি নাই।
বলবো কি ওকে, দেব কি হৃদয়?
কেয়াবাৎ নাকি হায় হায় হায়-
হাহা হিহি হোহো? রেগে হবো লাল?
সূক্ষ্ম হিসেবে কেটে যায় কাল!
কত যে রান্না করেছি খান না
হাজার দেখেও কম পড়বে না।
সবই মায়াময় জিভে-জল ছবি-
নজরানন্দে ভুলে থাকো ভবি।
শেয়ার নতুবা গল্প কবিতা
রম্য রচনা, প্রাণের বার্তা-
আত্মকথনে দেয়াল ভরাই
ভুলে বা না-ভুলে আপদ বালাই।
পুব দিক থেকে পশ্চিম পানে
হোয়াটসঅ্যাপেই রাখে চোখ টেনে।
শুধু ছুটোছুটি ফরোয়ার্ড খেলা-
কোথায় কি গেল - বড়োই ঝামেলা।
ভুল পথে গেলে ডিলিট ডিলিট
তাতেও তো কাটে বেশ ক'মিনিট।
তারপর আছে ফিরে ফিরে নাচ
একই ছবি গান দিনে বার পাঁচ!
একই জ্ঞান দেয় নানা দলবল
মনে হয় যেন মরশুমি ফল!
চার দেয়ালের সীমিত জীবন
টেকনোলজির ভরসা-যাপন।
হয় যদি তাতে ওলোটপালোট
বেঁচে থাকা বুঝি হারায় সাপোর্ট!
বাপরে, এল কি শেষের সেদিন?
আসলে হঠাৎ হল একদিন-
ভার্চুয়ালটা গিলে খেয়ে নিয়ে
ঢেঁকুর তুলেছে, এসেছি বেরিয়ে।
অ্যাকচুয়ালেতে পড়েছি ধপাস-
মাটি জল রোদ আকাশ বাতাস!
হোক পরিচয় আবার না হয়
বন্ধুর মতো পেতে আশ্রয়।

[May 24, 2020, Lockdown day 61]

Sunday, May 10, 2020



তবু আকাশটা ছবি হয় পড়ন্ত রোদে,
মেঘ ঢেউ হয়ে ভেঙে যায় প্রতি বুদ্বুদে-
ঘুড়ি প্রাণপণে ছুঁতে চায় আকাশের নীল,
ওই ঘরে ফেরে ডানা মেলে আনমনা চিল।
রোজ ছাদে ছাদে কথা ওড়ে গল্পগাছায়-
এই লকডাউনের দিনে বিকেলবেলায়।


[May 10, 2020, Lockdown Day 47]

Friday, May 8, 2020

বিশাখাপত্তনম



বিশাখাপত্তনম
অন্তবিহীন নিকষ কালো
সুড়ঙ্গপথ, আস্তে চলো-
পথের মাঝে লুটিয়ে আছে
নিথর চোখ, স্বপ্নমাখা।
একটু বাতাস ছুঁতে চাওয়া
বাড়ানো হাত, মুষ্ঠিবদ্ধ।
বিষাক্ত গ্যাস-ভরা ফুসফুস,
মোচড়ানো দেহ, চিরস্তব্ধ!
জোড়া জোড়া পা গতিবিহীন
আচমকা ব্রেকে, অনস্তিত্ব।
উল্কার বেগ সংবরণ করে
সাবধানে চলো, সন্তর্পণে।
এ মৃত্যুপুরী আমার দেশ!
সে যে আমার জন্মভূমি!
ভণ্ডামি ভরা ধাপ্পাতে সেরা
বড় নিষ্ঠুর বধ্যভূমি!
[May 08, 2020, Lockdown Day 45]

Thursday, May 7, 2020

বৃষ্টি তুমি


বৃষ্টি তুমি
বৃষ্টি তুমি টুপ টাপ টুপ-
বৃষ্টি তুমি টাপুর টুপুর-
বৃষ্টি তুমি ঝমঝমাঝম-
সকাল থেকে সারা দুপুর। 
বৃষ্টি তুমি সারাটি রাত
গোলন্দাজী বাজ-বিদ্যুৎ,
গাছের সঙ্গে পাঞ্জা লড়াই-
ধ্বস্ত ভোরের নেই কোনো জুত।
মেঘের পরে মেঘ সেজেছে-
কালো মেঘে চিল সিল্যুয়েট-
বৃষ্টি তুমি মেঘমল্লার,
মেঘালয়ের খোলা লকগেট।
বৃষ্টি তুমি সৃষ্টি অপার,
ধারাপাতে ছুটির গন্ধ-
ডুবলে শহর রেইনিডেতে
কেউ খুশি আর কেউ বা জব্দ।
স্কুলের ছুটি বিকেল বেলা-
পিচ রাস্তায় ছপাৎ ছপাৎ,
হুগলি নদীর জুঁই ফুলী ঢং-
বৃষ্টি তুমি ছলাৎ ছলাৎ। 
হাওড়া ব্রিজে বৃষ্টি ভিজে
কাক মানুষের ছড়াছড়ি,
ছাদের ওপর ভেজা কাপড়
দড়ির সঙ্গে জড়াজড়ি। 
বৃষ্টি তুমি শস্যশ্যামল,
ধানের বুকে দুধ ভরন্ত-
বৃষ্টি তোমার অনেক ছবি
অ্যালবামে তার নেইকো অন্ত। 
বৃষ্টি তুমি একই আছো
বদলে গেল জীবন যাপন
আমূল পরিবর্তনেতেও
বৃষ্টি তুমি থেকো আপন।
[May 07, 2020 Lockdown Day 44]