লুকোচুরি খেলার বাধাবিঘ্ন
আজ রিনার ছেলে বুবকা এসেছিল। কাল ও ফিনল্যান্ড ফিরে যাচ্ছে। তাই ওর কলকাতার স্পেশাল অ্যাট্রাকশন গল্পকে বাই বাই করতে এসেছিল। অনেক জাপটাজাপটি, কোস্তাকুস্তি, ধস্তাধস্তির পর দুজনে ঠিক করল এবার লুকোচুরি খেলবে। বুবকা দোতলার বারান্দা আর গল্পর ঘর বাদে একটা সীমানা নির্দিষ্ট করে দিল লুকোবার পরিসর হিসেবে। বারান্দা বৃষ্টিতে ভিজে, তাই ঐ দিকটা বাদ। প্রথমে চোর হবে বুবকা, লুকোবে গল্প। বুবকা ওয়ান থেকে ফাইভ অবধি গুনে খুঁজতে শুরু করবে। খেলা শুরু হল। গল্প তিনতলা যাবার সিঁড়ির চাতালে লুকিয়েছে। বুবকা জোরে জোরে গুনছে। ফাইভ বলা মাত্র ওপর থেকে প্রশ্ন - তুমি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছো? আমরা দর্শক কাম আম্পায়াররা সবাই হেসে উঠলাম। বললাম - এরকম করে সাড়া দিলে তো ও বুঝতে পেরে যাবে তুই কোথায় লুকিয়েছিস। কথা বলবি না। দ্বিতীয় দফার খেলা শুরু। এবার শর্ত হল টেন অবধি গুনতে হবে। তাই সই। বুবকার চোখ বন্ধ। গল্প লুকোলো নান্দিকের ঘরে। বুবকা গুনতে গুনতে যেই টেনে পৌঁছলো অমনি ঘর থেকে - এবার এসো। আবার সমবেত হাসি। তখন গল্প নিজেই হালুম বলে লাফিয়ে হাজির। আবার তাকে বোঝানো - ওরে, মুখ বুজে চুপ করে লুকিয়ে থাকবি যতক্ষণ না তোকে খুঁজে পায় বুবকা। তখন সে বলে - আমার তো অন্ধকারে ভয় করে! তখন পরামর্শ দেওয়া হল - সব ঘরে আলো জ্বেলে দে তাহলে। শুনে বলে- তাহলে আর লুকোনো হবে কি করে! অগত্যা অন্য খেলায় সুইচ ওভার!
09/06/2021
No comments:
Post a Comment