Friday, August 21, 2020

স্বাধীনতা ৭৩

স্বাধীনতা ৭৩

রূপায়ণ বড় দুর্বল।
আজন্ম তার সম্বল
অসুখ-বিসুখ,
ক্লিষ্ট শরীর-মুখ।
তার সুস্থ থাকার দায়
কারো ওপরে কি বর্তায়?
রূপায়ণ রোজগেরে।
কিন্তু কপালফেরে
জুটেছে পকেটমার!
বাঁধা বন্দোবস্ত তার।
লাগরে ভেলকি লাগ –
ভ্যানিশ সিংহভাগ!
তাই রূপায়ণ ভোগে
চির অপুষ্টি রোগে।
বল যত প্রয়োজন,
তার তুলনায় বড়ো ক্ষীণ আয়োজন।
মাঠে-ময়দানে নেতা-জনগণ,
সেমিনার আর কত কমিশন,
বিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ বহুজন মিলে দিল তাকে টার্গেট।
কিন্তু সে খায়নি তো ভরপেট!
সস্তার তিন অবস্থা-
প্রতি বর্ষায় ভাঙা রাস্তা-
অথবা হঠাৎ ব্রিজ ধূলিসাৎ!
রূপায়ণও কুপোকাৎ!
টার্গেট থেকে লক্ষ যোজন দূরে
রূপায়ণ গেছে হেরে!
ইত্যবসরে গদি ওল্টায়
রং বদলায়, নীতি পাল্টায়-
একই গল্পের পুনরাবৃত্তি-
একটুও নেই যত্নআত্তি।
রূপায়ণ চুরমার-
বার বার আর কতবার?
বাজারে এসেছে টাটকা শিক্ষানীতি-
ওপড়াবে যত পুরোনো ব্যর্থ স্মৃতি।
রূপায়ণ! চোখ খোলো-
আরও একবার কাঁধেতে জোয়াল তোলো।
রূপায়ণ বড়ো শ্রান্ত।
অনৈতিকের ফাঁপা হাড়গোড়ে রূপায়ণ দিগভ্রান্ত!
বয়স তিয়াত্তর,
দু’পা কাঁপে থরথর-
রূপায়ণ! আরও একবার
ব্যর্থ হবার সময় এসেছে-
দেশপ্রেম যে আবার হেঁকেছে-
পারবে কি নিতে গুরুভার?

6th August, 2020

নিজভূমে

 নিজভূমে

তিনি তোমাকে কণ্ঠ দিয়েছেন-
রাষ্ট্র দিয়েছে সঙ্গীত।
সমবেত সঙ্গীতে কণ্ঠ মেলালে
বেঁচে যাবে গলা, বর্তে যাবে তুমিও।
অনধীন গতিবিধি নিয়ে
গলায় বকলস ছাড়াই
তুমি পা মেলাবে নেশাড়ু চলনে
গড্ডলিকা প্রবাহে।
এমনকি যদি দর্শাতে পারো
বিশেষ দক্ষতা, থাবার জোর, শাণিত নখর-
যদি খুশি হয়ে যায়
সন্ত্রস্ত মেষপালক-
তবে খেতে পারো আস্তে আস্তে
মঞ্চের সবটুকু আলো।
আর অন্ধকারের পুরোটাই
জড়িয়ে দাও প্রেক্ষাগৃহে-
অন্ধকার তালিম দেবে
সমবেত সঙ্গীত অথবা নৈ:শব্দে।
অন্যথায় তুমিই মহামারী!
বিরোধী কণ্ঠ চিনে চিনে,
ঘোর তমসায় শ্বাপদ ক্ষিপ্রতায়
খুবলে ছিন্ন করো প্রতিবাদী অস্তিত্ব।
দেশপ্রেমী গিলোটিন ঘিরে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসহায় চেয়ে থাকে
গণতন্ত্রের ছ্যাতরানো রক্ত-মাংস-মগজ-স্বপ্ন।

30th July, 2020

Saturday, July 11, 2020

চলনকথা


চলনকথা
সাতকাহন সাতকাহন-
কত দিনের পথ
ফেলে এলে বৃষ্টি-রোদে
ধূলিধূসর রথ?
রথের চূড়োয় উড়ছে ধ্বজা
হাওয়ার সাথে যুদ্ধ-
রইতে হলে সইতে হবে
হাওয়া বড়োই ক্রুদ্ধ!
ক্রোধের থাবা আষ্ঠেপৃষ্ঠে
বিতত বিতংস-
আগুনরেখায় গণ্ডি টানা
হাতছানি দেয় ধ্বংস!
ধ্বংসমাতন সামাল সামাল,
মূল্য কড়ি কানা,
তবু শূন্য থেকে অন্য ভোরে
ফিনিক্স মেলুক ডানা।

July 12, 2020

আয়না


tuerSp1uSosns0or Jruhalegtdy 2l0S17 
Shared with Public
Public
আয়না
সামনে তোমার আয়না মজুদ
তবুও তুমি দেখছো না।
একি বালাই! নিজেকে আজ
মানুষ বলেই চিনছো না!
চোখে তোমার অসুখ নাকি?
মনে ঘুনের বাসা?
কার সলাতে চলন তোমার
এমন বুদ্ধিনাশা!
মানুষ-চোখে মানুষ-মনে
আয়নাটাকে বোঝো,
নিজের ভিতর ঘুমন্ত সেই
মানুষটাকে খোঁজো।

Friday, June 5, 2020

ফর্মুলা


ফর্মুলা
ঝড়ের ওপর ঝড় এসেছে, নেই কোনো উপায়-
আমফানেতে সব কেড়েছে, বাকি প্রাণের দায়।
পায়ের নিচে নেইকো মাটি, পেটের খিদে সার-
মাথার ওপর ছাদ উড়েছে - ভগবানের মার।
নোনাজলে মাঠ ডুবেছে নিঃস্ব শস্য সুখ,
বন্ধ্যা জমি ক'টা বছর ফিরিয়ে নেবে মুখ।
ঘরের রসদ আগেই খতম, এবার লোপাট ঘর-
চোখের সামনে শুধুই আঁধার শূন্য চরাচর।
এ জল এবার মাপা হবে রাজনৈতিক স্কেলে,
হিস্যা নিয়ে লাঠালাঠি পদ্ম-ঘাসের ফুলে।
উলুখড়ে চুষবে কলা চিরকাল যা হয়-
ভয়ের গ্রহে জন্ম এদের কপালজোড়া ক্ষয়!
ক্ষতির হিসেব কষতে আছে দুটিই ফর্মুলা-
মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা - না যদি যায় বলা
মেনে তখন নিতেই হবে অন্যটিকেই খাঁটি-
ক্ষতি নেহাৎ বোঝার ওপর ছিল শাকের আঁটি।



[May 28, 2020, Lockdown day 65]

ভারি ভার্চুয়াল

ভারি ভার্চুয়াল

উত্তরে চাই দক্ষিণে চাই
ফেসবুক বিনে কোনো গতি নাই।
বলবো কি ওকে, দেব কি হৃদয়?
কেয়াবাৎ নাকি হায় হায় হায়-
হাহা হিহি হোহো? রেগে হবো লাল?
সূক্ষ্ম হিসেবে কেটে যায় কাল!
কত যে রান্না করেছি খান না
হাজার দেখেও কম পড়বে না।
সবই মায়াময় জিভে-জল ছবি-
নজরানন্দে ভুলে থাকো ভবি।
শেয়ার নতুবা গল্প কবিতা
রম্য রচনা, প্রাণের বার্তা-
আত্মকথনে দেয়াল ভরাই
ভুলে বা না-ভুলে আপদ বালাই।
পুব দিক থেকে পশ্চিম পানে
হোয়াটসঅ্যাপেই রাখে চোখ টেনে।
শুধু ছুটোছুটি ফরোয়ার্ড খেলা-
কোথায় কি গেল - বড়োই ঝামেলা।
ভুল পথে গেলে ডিলিট ডিলিট
তাতেও তো কাটে বেশ ক'মিনিট।
তারপর আছে ফিরে ফিরে নাচ
একই ছবি গান দিনে বার পাঁচ!
একই জ্ঞান দেয় নানা দলবল
মনে হয় যেন মরশুমি ফল!
চার দেয়ালের সীমিত জীবন
টেকনোলজির ভরসা-যাপন।
হয় যদি তাতে ওলোটপালোট
বেঁচে থাকা বুঝি হারায় সাপোর্ট!
বাপরে, এল কি শেষের সেদিন?
আসলে হঠাৎ হল একদিন-
ভার্চুয়ালটা গিলে খেয়ে নিয়ে
ঢেঁকুর তুলেছে, এসেছি বেরিয়ে।
অ্যাকচুয়ালেতে পড়েছি ধপাস-
মাটি জল রোদ আকাশ বাতাস!
হোক পরিচয় আবার না হয়
বন্ধুর মতো পেতে আশ্রয়।

[May 24, 2020, Lockdown day 61]

Sunday, May 10, 2020



তবু আকাশটা ছবি হয় পড়ন্ত রোদে,
মেঘ ঢেউ হয়ে ভেঙে যায় প্রতি বুদ্বুদে-
ঘুড়ি প্রাণপণে ছুঁতে চায় আকাশের নীল,
ওই ঘরে ফেরে ডানা মেলে আনমনা চিল।
রোজ ছাদে ছাদে কথা ওড়ে গল্পগাছায়-
এই লকডাউনের দিনে বিকেলবেলায়।


[May 10, 2020, Lockdown Day 47]

Friday, May 8, 2020

বিশাখাপত্তনম



বিশাখাপত্তনম
অন্তবিহীন নিকষ কালো
সুড়ঙ্গপথ, আস্তে চলো-
পথের মাঝে লুটিয়ে আছে
নিথর চোখ, স্বপ্নমাখা।
একটু বাতাস ছুঁতে চাওয়া
বাড়ানো হাত, মুষ্ঠিবদ্ধ।
বিষাক্ত গ্যাস-ভরা ফুসফুস,
মোচড়ানো দেহ, চিরস্তব্ধ!
জোড়া জোড়া পা গতিবিহীন
আচমকা ব্রেকে, অনস্তিত্ব।
উল্কার বেগ সংবরণ করে
সাবধানে চলো, সন্তর্পণে।
এ মৃত্যুপুরী আমার দেশ!
সে যে আমার জন্মভূমি!
ভণ্ডামি ভরা ধাপ্পাতে সেরা
বড় নিষ্ঠুর বধ্যভূমি!
[May 08, 2020, Lockdown Day 45]

Thursday, May 7, 2020

বৃষ্টি তুমি


বৃষ্টি তুমি
বৃষ্টি তুমি টুপ টাপ টুপ-
বৃষ্টি তুমি টাপুর টুপুর-
বৃষ্টি তুমি ঝমঝমাঝম-
সকাল থেকে সারা দুপুর। 
বৃষ্টি তুমি সারাটি রাত
গোলন্দাজী বাজ-বিদ্যুৎ,
গাছের সঙ্গে পাঞ্জা লড়াই-
ধ্বস্ত ভোরের নেই কোনো জুত।
মেঘের পরে মেঘ সেজেছে-
কালো মেঘে চিল সিল্যুয়েট-
বৃষ্টি তুমি মেঘমল্লার,
মেঘালয়ের খোলা লকগেট।
বৃষ্টি তুমি সৃষ্টি অপার,
ধারাপাতে ছুটির গন্ধ-
ডুবলে শহর রেইনিডেতে
কেউ খুশি আর কেউ বা জব্দ।
স্কুলের ছুটি বিকেল বেলা-
পিচ রাস্তায় ছপাৎ ছপাৎ,
হুগলি নদীর জুঁই ফুলী ঢং-
বৃষ্টি তুমি ছলাৎ ছলাৎ। 
হাওড়া ব্রিজে বৃষ্টি ভিজে
কাক মানুষের ছড়াছড়ি,
ছাদের ওপর ভেজা কাপড়
দড়ির সঙ্গে জড়াজড়ি। 
বৃষ্টি তুমি শস্যশ্যামল,
ধানের বুকে দুধ ভরন্ত-
বৃষ্টি তোমার অনেক ছবি
অ্যালবামে তার নেইকো অন্ত। 
বৃষ্টি তুমি একই আছো
বদলে গেল জীবন যাপন
আমূল পরিবর্তনেতেও
বৃষ্টি তুমি থেকো আপন।
[May 07, 2020 Lockdown Day 44]

বন্ধুকে

বন্ধুকে-

আমাদের দেখা হলে অতিমারি শেষে
হয়তো বা কথা হবে বাঁশঝাড়ে বসে।
হয়তো শ্যাওড়া ডালে চাঁদে খোলা চুল,
বেলগাছে সিক্সপ্যাক করেছে কবুল।
নয়তো পুকুরপাড়ে কোলাব্যাঙ বেশে-
ল্যাজ কবে খসলো রে?-জেনে নেবো হেসে।
হয়তো বা পাখি হয়ে উড়ে বহুদূর
সেরে নেবো বাকি থাকা ফরেনের ট্যুর।
হই যদি ভীমরুল ঘিরে ফেলে নাকা
হুল দিয়ে শোধ নেবো নয়ছয় টাকা।
হতেও তো পারি বল পাকুড়ের চারা
রোদে ঝড়ে ভালোবাসে শ্রাবণের ধারা।
যেভাবেই দেখা হোক শুধোবো তো বটে-
কী লিখেছিল রে ডেথ সার্টিফিকেটে?
করোনা করুণা নাকি অকরুণ কিছু?
কিসে টেঁসে কোন পথে এলি পিছু পিছু?
[May 06, 2020, Lockdown Day 43]

Monday, May 4, 2020

মিত্রোঁ


হে মোর মিত্রোঁ নরককুণ্ডে যাও রে ধীরে
এই ভারতের দেশপ্রেমীদের লুঠের-জেরে।।
পিএম কেয়ারে কতটা এলোরে- নমি দেবী করোনারে,
হাততালি দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে বন্দন করি তারে।
পরিযায়ী কত শত হে শ্রমিক নিজেরাই কিনো রেলের টিকিট-
আমাকে বোলোনা, আমি তো চিনিনা দারিদ্র্যেরে।
এই ভারতের দেশপ্রেমীদের লুঠের-জেরে।।

[May 04, 2020, Lockdown Day 41]

Sunday, May 3, 2020

পৌরাণিক ধাষ্টামো


পৌরাণিক ধাষ্টামো
বানরসেনার নিষ্পত্তি আর
বায়ুসেনার উৎপত্তি-
দুই মেলালেই বেদ-পুরাণে
অসীম তোমার ব্যুৎপত্তি।
পুষ্পবৃষ্টি? সেও রামায়ণ,
রাম বিনে আর গতি নাই-
উল্টে পাতা, চুলকে মাথা,
নিজেই নিজের পিঠ চাপড়াই!
পিপিই নাই, নিরাপত্তাও,
চাল-ডাল-তেল তাও জোটে না-
লকডাউনে আটক শ্রমিক-
আনচান প্রাণ, কেউ পোঁছে না।
অনটনের মিছিল চলে
দিকবিদিকে চাই চাই চাই...
এমন সময় পুষ্পবৃষ্টি!
প্রাসঙ্গিকে বাজেট নাই!!
সমরসজ্জা? – বাজেট আছে,
অক্ষৌহিনী প্রাক্কালিক!
স্বাস্থ্য-শিক্ষা-খিদের হিসেব?
ট্যাক্সের টাকা কার পৈতৃক?
রাজা এখন ভোট-সোহাগে
সবাইকেই মিত্রোঁ ডাকে,
কিন্তু কাউকে তোলে মাথায়,
কাউকে বা ফেলে পাঁকে।
মন-কি-বাত আর চাপান-উতোর-
কথামালা রাজনৈতিক,
ক্লিশিত যাপনে একা
করোনাই গণতান্ত্রিক।

[May 03, 2020, Lockdown Day 40]

Aditi Ghosh, 




করোনা-প্রসাদী

করোনা-প্রসাদী
মন রে বি-জ্ঞান মানো না।
থালা-বাটির ঝংকারে করোনা
পালাবার আর পথ পাবে না।।
মন রে মুখোস-মুখ বোঝো না।
শুধুই মুখ-মুখোসের কথার বড়াই
কথার তালে কাজ মেলে না।।
মন রে দেশপ্রেমী চেন না।
ঘোলা জলে মৎস্য ধরে, চাপান-
উতোর বিনা আর জানে না।।
মন রে বশংবদ বোঝো না।
যাদের কাটমানিতে আঁটিশুঁটি-
অন্যের পচা চালের দানা।।
মন রে গরু-জাত চেন না।
সকল জগৎ গোময়, মগজ গোময়,
গরুই খাঁটি সত্য জানা।
মন রে ফর্মুলা জানো না।
টেঁসে গেলে কষে কমাও, কারণ
মড়া প্রতিবাদ করে না।।
মন রে রামরাজ্য চাও না।
মন্দিরেতে রামাবতার, তুমি
চুলোরদোরে গিয়ে মরো না।।
মন রে যাঁতাকল চেন না।
হাঁকে রাজা-রানী যুদ্ধং দেহি-
উলুখড়কে কেউ পোঁছে না।।
মন রে ভাইরাসকে চেনো না।
ছড়িয়ে আছে চতুর্দিকে, এরা
করোনার চেয়ে কেউ কম না।।
[April 29, 2020, Lockdown Day 36]

আকাশ এখন

আকাশ এখন ঝকঝকে মুখ-
নেইকো আবিলতা,
শিল্পী সে তো আঁকছে ছবি
ভুলছে বিষণ্ণতা।
আকাশ এখন প্রজাপতি
পাখায় ছড়ায় রং,
রঙের ঝাঁপি উজাড় করে
মেলায় প্রতিক্ষণ।
আকাশ এখন বেহিসেবি
সকাল দুপুর সন্ধ্যে,
অন্ধকারেও আকাশ সজীব
তারা ফোটার ছন্দে।
আকাশ এখন ঘুড়ি ময়দান
ভোঁকাট্টার খেলা,
রামধনু রং ফিতে বাঁধা
মেঘবালিকার মেলা।
আকাশ এখন মেঘের ভাঁজে
হাজার প্রদীপ জ্বেলে-
শহর জুড়ে কনে দেখা
আলোর ফোকাস ফেলে।
এই আকাশে তোমার আমার
মুক্তি আলোয় আলোয়,
এই কটা দিন লকডাউনে
কাটুক ভালোয় ভালোয়।




[April 27, 2020, Lockdown Day 34]