Friday, April 17, 2020

বং মাস্কেটিয়ার্স


বং মাস্কেটিয়ার্স



সাতসকালে ঝুলিয়ে থলে,
দুলিয়ে নেয়াপাতি-
বাবু এখন বাজার চলেন
ল্যাদ খাওয়া তার গতি।
গলায় আছে মাস্কটি বাঁধা
নেকলেসেরই মতো-
নাক-গোঁফ-ঠোঁট সবাই স্বাধীন,
দিচ্ছে উঁকি দাঁতও।
মাঝেমাঝেই ফুঁকুর ফুঁকুর
সিগারেটের ধোঁয়া-
কোথায় পুলিশ? কে ধরবি আয়-
কুছ নাহি পরোয়া।
এর ফাঁকেতে ওয়াক থু-তে
আলপনাটাও আঁকি-
চোর-পুলিশের খেলায় আমার
নেইকো কোনো ফাঁকি।
হেলতেদুলতে পৌঁছে বাজার
ভীড় যেখানেই পাই,
ওইখানেতেই সস্তা-টাটকা
জলদি সমঝে যাই।
ভীড়ের ঘাড়ে মুখ বাড়িয়ে
হাঁকডাকে দিই সাড়া-
লকডাউনে আমরা হলাম
করোনারও বাড়া।
হপ্তা-ভরা ভক্তি আমার
তাই তো কেলাই দাঁত-
ডিসট্যানসিং-এর ধার ধারি না
করছি বাজার মাৎ।
উপোস-তিরেস পাথর-ধারন
মাদুলি পরা জাত-
যেমন তেমন মাস্ক ধারনেই
করোনা কুপোকাৎ!

(April 18, 2020, Lockdown day 25)


নববর্ষের শুভেচ্ছা -
এক-
কোভিড নাইনটিন
বদলে দিল দিন!
আশায় বাঁধি বুক
ফিরবে আবার সুখ।
ভ্যানিশ ভাইরাস
চোদ্দোশোসাতাশ!

দুই-
তোমার ঘরে রেশন থাকুক
দু-চারটে ফল ঘরেই পাকুক।
ডাল দিয়ে ভাত সবটি মেখে
পেট ভরে খেও সব্জি চেখে।
মাছ-মাংস দুধ-ছানা-গুড়
নাই বা হলো টইটম্বুর।
আসছে বছর আবার হবে
করোনা-ত্রাস ফুরিয়ে যাবে।
একলা থাকাই এখন দিশা,
ঘরে রেশন, প্রাণে আশা।

(April 17, 2020, Lockdown day 24)

Thursday, April 16, 2020


লকডাউনের ছড়া
কলেজইস্ট্রিট, কলেজইস্ট্রিট, তুমি কেমন আছ?
কাটাকুটি ট্রামের লাইন, বিছিয়ে রাখো আজও?
বিষম শব্দ, দূষণযন্ত্র ফেল করে যায় রোজ,
লাখো মুখের মিছিল, কারো কেউ রাখে না খোঁজ!
হরেক আলো পিছলে পড়ে সুখদু:খের গায়
আলোর ছটায় কান্না-হাসি চেনা বড়ই দায়!
থমকে থামার নেই কো আইন, ছিটকে যেতে হবে-
হাওড়া গেলে পশ্চিমে যাও, জব্বর জ্যাম পাবে।
পুবের দিকে ভীড়ের মাঝে ওই যে শেয়ালদা
উত্তরেতে হাতিবাগান, শ্যামবাজারও হোথা।
সারি সারি বইয়ের দোকান ফুটপাতে দক্ষিণে
কফিহাউস বাঁয়ে রেখে প্রেসিডেন্সি ডানে-
পেরিয়ে গেলেই কলকাতার সেই বিশ্ববিদ্যালয়,
মেডিকেলের দরজা ছুঁয়ে পথ গড়িয়ে যায়।
এই সমস্ত ভালো আছে? আগেও ছিল যেমন?
সব মিলিয়ে কলেজইস্ট্রিট, আছ তুমি কেমন?
তোমায় ঘিরে স্বপ্ন হল কালকে রাতের শেষে
আলোর সুইচ অফ করেছেন তাপস সেন এসে-
চৌমাথাটার মধ্যিখানে চাঁদের আলোর স্পট-
তাকে ঘিরে তাথৈ নাচে অদৃশ্য সব নট।
দিনেরবেলা পিসি সরকার ম্যাজিক দেখাচ্ছেন!
হাপিশ মানুষ-গাড়িঘোড়া, আর যত লেনদেন।
শব্দ-জব্দ কী নিস্তব্ধ সবদিকই শুনশান
একলা রাস্তা ডিউটি করে বুক পেতে টানটান।
এসব কথা সত্যি নাকি! একটু বলে দেবে?
তোমার সাথে সবার আবার কবে দেখা হবে!

(April 16, 2020, Lockdown day 23)


Monday, March 19, 2012

ছেড়ে দে মা....

কে যে কেন কোনখানে যায়
তার কৈফিয়ৎ কেন আমায়?
আমার আছে নানান গণ্ডি
তারই মাঝে অন্ধিসন্ধি
অন্ধি চোখে ঘোর লাগায়
সন্ধি প্রাণে প্রেম জাগায়
এই যাপনের ফন্দি নানান
মাপ বুঝি তার সাতটি কাহন!

Saturday, January 22, 2011

নষ্টমেয়ে
আকাশ আগুন
মাটি আগুন
শরীরভরা আগুন, আমি
আগুন নিয়ে বাঁচি...
আগুন সাক্ষী
চলন বিনা
জন্ম হবে বৃথা, আমার
নেইকো বাছাবাছি...
এই আগুনই
করতো নিকেশ
মরা পতির সঙ্গে, আমি
জ্যান্ত পুড়ে নাচি...
আজও আগুন
ফন্দি জিভে
লকলকিয়ে চাটে আমায়-
পণ-না-আনা পাজি...
নয়তো ডাকি
আয়রে আগুন
সর্ব জ্বালা জুড়িয়ে, আমি
মরণ হলেই বাঁচি...
ঘরে আগুন
ঘাটে আগুন
ফেরার রাস্তা অগ্নিদগ্ধ
ছাই ধরেছে বাজি...
ছেঁড়া নোঙর
পোড়া নদী
বিতত বিতংসে আমি
ডুবতে রাজি আছি...
দুধে আগুন
ভাতে আগুন
আদিম আগুন মজুদ; আমার
সাকিন সোনাগাছি...
[8.12.05]

Monday, January 10, 2011

কনসার্ট
ঘাসের ডগায় সুর,
গাছের পাতায় তাল,
হাওয়ায় নাচে লয়,
শরীরের তন্ত্রীতে শিশিরকণা-
মাটির গভীরে মীড়,
আকাশে ডানা মেলা গমক,
রাতের অন্ধকার সন্তর্পণে মুড়ে রাখে
গুরুগুরু তবলার বোল-
কালবোশেখীর কালো মেঘকে শেখাবে
তা আগামী বৈশাখে।
জোয়ারির জোয়ারে প্লাবিত অযুত সত্তা।
সরোদ-সরোদিয়া এখন অভিন্ন,
অভিন্ন দু-সহোদরের দুই আত্মা,
তাবৎ ভিন্নতা বাষ্পীভূত সুরের উৎসারে।
সময়ের কণা অপেক্ষমান তারার আলোয়-
নাগরিক যন্ত্রণা নতজানু
এই একনায়কতন্ত্রে।
ট্রামের ধাতব শব্দ পেরিয়ে
ইমনের ম্যাজিক
কলেজস্ট্রিট জুড়ে।
উত্তাল দেশ, উদ্বেল কাল, উঁচুনিচু ঢেউ
নিমেষে একই মাপের
একই তর্জনী বিভঙ্গে!

[pilsuj, 2003]
[আমজাদ আলি আমন আর আয়ানকে নিয়ে সরোদ বাজিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সির খোলা মাঠে]

Sunday, January 9, 2011

মন্দ নাকি ভালো

মন্দ নাকি ভালো

শরীর জুড়ে আসন পাতা
ছায়ায় মোড়া নদী
এক গণ্ডুষ জল কে বা দেয়
প্রহর ফুরোয় যদি!

ফুরোয় যাপন লাল-সবুজের
রং শুষে নেয় কারা?
অন্ধকারে ছড়িয়ে আছে
কয়েক মুঠি তারা।

আলগা মুঠির পলকা ফাঁকে
জনম গলে যায়
ঘাস মাড়িয়ে মাঠ ছাড়িয়ে
মৃত্যু নাচে পায়ে!

লাস্য নাচে আগুন হলো
নিভন্ত ওই আলো
এক জনমে ক্যামনে জানি
মন্দ নাকি ভালো!